বর্ষা মৌসুমের আগে থেকে অতিবৃষ্টির কারণে খুলনায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন মারা গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুলনা ডেঙ্গুর জন্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। মহানগরীর ১০টি ওয়ার্ড, রূপসা ও পাইকগাছা উপজেলাকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুম থেকে এ পর্যন্ত ৩৪০৩ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া, রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। আক্রান্তের তালিকায় রূপসায় ৪৯০ জন এবং পাইকগাছায় ১০৬ জন রয়েছে।
জনস্বাবিদরা মন্তব্য করেছেন গত আড়াই দশকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ না করায় ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতি বছর বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ ভাগ পুরুষ এবং ৩৮ ভাগ নারী। মৃত্যু তালিকায় দেশের মধ্যে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে গাজি মেডিকেল কলেজে ওমর ফারুক নামে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ৫২ বছর বয়সী। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার অধিবাসী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বের নির্দেশনা মোতাবেক এ রোগীর মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তানিয়া মুন গত ৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১৬ দফা পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে ডেঙ্গুকে গুরুত্ব ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুলনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট সৃষ্টি না হয়, রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষায় নির্ধারিত ফিসের চেয়ে বেশি নেয়া হচ্ছে কি না তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের বিশেষ টিম দায়িত্বপালন করছে। জেনারেল হাসপাতালে ৪৫ শয্যাবিশিষ্ট এবং উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যা বিশিষ্ট পৃথক ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। আরবান ডিসপেনসারিগুলোতে অস্থায়ী ক্যাম্প খোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুলনাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জেলার রূপসা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং নগরীর টুটপাড়া এলাকার দিকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ নজর রয়েছে। দক্ষিণের জেলাগুলোর মধ্যে খুলনাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালে তিনদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোর্ট গ্রামের ইউনুস শেখ এর ছেলে হামিম শেখ। তিনি স্থানীয় বিএলজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। রোগীর সাথে হাসপাতালে আছেন তিন নিকটাত্মীয়। চার জনের থাকা খাওয়া মিলে চিকিৎসা ব্যয় বহণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই অবস্থা গল্লামারীর বাসিন্দা এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিটন ফকিরের। হাসপাতালে দেওয়া ওষুধে তার সু-চিকিৎসা হচ্ছে বলে তার স্ত্রী জানান।
খুলনা গেজেট/এনএম

